স্বাধীনবাংলা রির্পোটঃ স্বাধীনবাংলা রির্পোটঃ

প্রকাশিত: ১০ জুন ২০২৬ , ০৫:৫২ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

#

সাতক্ষীরার ঐতিহ্যের সাক্ষী সোনাবাড়িয়া মঠবাড়ি মন্দির: চার শতকের ইতিহাসে মোড়া এক প্রত্নসম্পদ

 সা  তক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার সোনাবাড়িয়া গ্রামে অবস্থিত সোনাবাড়িয়া মঠবাড়ি মন্দির বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা। সাতক্ষীরা জেলা সদর থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার এবং কলারোয়া উপজেলা সদর থেকে প্রায় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই মন্দির স্থানীয়ভাবেসোনাবাড়িয়া মঠশ্যাম সুন্দর মন্দিরনামেও পরিচিত। মন্দিরের শিলালিপিতে এর নামশ্যাম সুন্দর নবরত্ন মন্দিরহিসেবে উল্লেখ রয়েছে।

ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, প্রায় ৪০০ বছর পুরোনো প্রায় ৬০ ফুট উচ্চতার এই নবরত্ন মন্দিরটি ১৭৬৭ খ্রিস্টাব্দে হরিরাম দাস, মতান্তরে দুর্গাপ্রিয় দাস নির্মাণ করেন। ত্রিতল বিশিষ্ট এই স্থাপনাটির সঙ্গে দুর্গা মন্দির শিবমন্দিরও রয়েছে। পিরামিড আকৃতির স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত মন্দিরটির নিচতলা বিভিন্ন প্রকোষ্ঠ, মণ্ডপ অলিন্দে বিভক্ত। ছাদের ওপর ক্রমান্বয়ে উঁচু হওয়া গম্বুজের কেন্দ্রে বড় একটি রত্নাকৃতির চূড়া থাকায় এটি নবরত্ন মন্দির নামে পরিচিতি লাভ করেছে।

সোনাবাড়িয়া গ্রামজুড়ে মধ্যযুগীয় নানা পুরাকীর্তির উপস্থিতি এলাকাটিকে আরও ঐতিহাসিক গুরুত্ব দিয়েছে। জনশ্রুতি রয়েছে, আধ্যাত্মিক সাধক রামকৃষ্ণ পরমহংস একসময় এই মঠে প্রায় দুই মাস অবস্থান করেছিলেন। কারণে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে মন্দিরটির বিশেষ ধর্মীয় সাংস্কৃতিক গুরুত্ব রয়েছে।

প্রতিবছর দেশ-বিদেশের বহু দর্শনার্থী গবেষক এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি দেখতে আসেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ সংরক্ষণ সংস্কারের অভাবে মন্দিরটির বিভিন্ন অংশে অবক্ষয়ের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানান। ঐতিহ্যবাহী এই প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন তারা।