স্বাধীনবাংলা রির্পোটঃ স্বাধীনবাংলা রির্পোটঃ

প্রকাশিত: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৭:২৯ এএম

অনলাইন সংস্করণ

#

গাজীপুর-৫ আসনে জমজমাট নির্বাচনী লড়াই

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে গাজীপুর-৫ (কালীগঞ্জ–পূবাইল–বাড়িয়া) আসনে ভোটের লড়াই দিন দিন আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। দলীয় শক্তির পাশাপাশি ব্যক্তি জনপ্রিয়তা ও অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের উপস্থিতিতে এ আসনে তৈরি হয়েছে বহুমাত্রিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা। প্রার্থীরা বিজয়ের লক্ষ্যে প্রতিদিনই উঠান বৈঠক, গণসংযোগ, পথসভা ও মতবিনিময় সভা করছেন। মাঠপর্যায়ের প্রচারণার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও গ্রাফিক্স কার্ড ও ভিডিওর মাধ্যমে নিজেদের প্রতীক ও অঙ্গীকার তুলে ধরছেন তারা। ভোটের সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে পুরো আসনজুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ৮টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা এবং গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৪০, ৪১ ৪২ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত গাজীপুর- আসনে এবারে মোট জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেনবিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য একেএম ফজলুল হক মিলন (ধানের শীষ), ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল হাসান (দাঁড়িপাল্লা), জনতার দলের মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আজম খান (কলম), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. আল আমিন দেওয়ান (চেয়ার), গণফোরামের মো. কাজল ভুইয়া (উদীয়মান সূর্য), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের গাজী আতাউর রহমান (হাতপাখা) এবং জাতীয় পার্টির ডা. শফিউদ্দিন সরকার (লাঙ্গল)


আরও পড়ুন : গাজীপুর-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে গণসংযোগে মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দল


এই আসনে মূল লড়াই হবে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের একেএম ফজলুল হক মিলন জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের খায়রুল হাসানের মধ্যেএমনটাই মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। প্রথমবার সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া খায়রুল হাসান প্রত্যন্ত এলাকায় বেশ জনপ্রিয় হলেও সাংগঠনিক শক্তি ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতায় এগিয়ে আছেন সাবেক এমপি ফজলুল হক মিলন।

এছাড়া জনতার দলের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আজম খান সাধারণ মানুষের পাশে থাকার কারণে আলোচনায় রয়েছেন। তরুণ ভোটারদের একটি অংশ আকৃষ্ট হচ্ছেন ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের প্রার্থী আল আমিন দেওয়ানের দিকে। অভিজ্ঞতার দিক থেকে এগিয়ে থাকা ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী গাজী আতাউর রহমানও প্রচারণা চালাচ্ছেন সক্রিয়ভাবে। গণফোরাম জাতীয় পার্টির প্রার্থীরাও নিজ নিজ অবস্থান তুলে ধরছেন ভোটারদের সামনে।

গাজীপুর- আসনের ভোটাররা জানান, এখানে দলীয় পরিচয়ের চেয়ে প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, সততা অতীত ভূমিকা বেশি গুরুত্ব পায়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা, কৃষি উন্নয়ন মাদকমুক্ত সমাজএই বিষয়গুলোই ভোটারদের প্রধান বিবেচ্য। শেষ মুহূর্তের প্রচারণা কৌশলই নির্ধারণ করবে কে পাবেন বিজয়ের মুকুট।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কামরুল ইসলাম জানান, আসনে মোট ভোটার সংখ্যা লাখ ৫০ হাজার ৯৬৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ লাখ ৭৬ হাজার ৬১ জন, নারী লাখ ৭৪ হাজার ৯০৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার জন। মোট ১২৪টি কেন্দ্রে ৬৭৮টি বুথে ভোট গ্রহণ হবে। ৯০টি কেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে সক্রিয় রয়েছে।