প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ০২:১১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরা ইউনিয়নে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক বজরা শাহী জামে মসজিদ। প্রায় ২৮০ বছরের পুরোনো এই স্থাপনা মুঘল আমলের স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য নিদর্শন। ধর্মীয় উপাসনালয় হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বের কারণে মসজিদটি নোয়াখালীর অন্যতম দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় ইতিহাস ও প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, মুঘল সম্রাট মুহাম্মদ শাহের শাসনামলে জমিদার আমান উল্লাহর উদ্যোগে ১৭৪১-৪২ খ্রিস্টাব্দের দিকে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। সে সময়ের মুঘল স্থাপত্যরীতির নানা বৈশিষ্ট্যকে সামনে রেখে এর নকশা ও নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়েছিল।মসজিদটির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এর তিনটি বড় গম্বুজ। পাশাপাশি রয়েছে ছোট মিনারসদৃশ কাঠামো, নান্দনিক খিলান, মিহরাব এবং দেয়ালে সূক্ষ্ম অলংকরণ। ইট ও চুন-সুরকির নির্মাণশৈলীর সঙ্গে বিভিন্ন নকশা ও কারুকাজ মসজিদটির সৌন্দর্যে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে।
প্রশস্ত সামনের প্রাঙ্গণ ও নকশা করা প্রবেশপথও দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। মসজিদের বিভিন্ন অংশে মুঘল আমলের শিল্পরীতির প্রভাব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। দূর থেকে এর গম্বুজ ও স্থাপত্যের অবয়ব সহজেই মানুষের দৃষ্টি কাড়ে।
ঐতিহাসিক স্থাপনাটি দিল্লির শাহী জামে মসজিদের স্থাপত্যরীতির অনুকরণে নির্মিত বলে স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে মসজিদটি স্থানীয় মুসল্লিদের ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ইতিহাসপ্রেমী মানুষের আগ্রহের কেন্দ্র হয়ে আছে। নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও দেশের অন্যান্য স্থান থেকেও দর্শনার্থীরা এখানে আসেন।ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় ১৯৯৮ সালের ২৯ নভেম্বর বজরা শাহী মসজিদকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষিত স্থাপনার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর ফলে স্থাপনাটি দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তারা এই মসজিদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত। সময়ের পরিবর্তনে আশপাশের পরিবেশে নানা পরিবর্তন এলেও মসজিদের মূল স্থাপত্য এখনো মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ঐতিহাসিক সৌন্দর্য ও স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য ধরে রাখতে নিয়মিত সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রায় তিন শতাব্দীর ইতিহাস ধারণ করে বজরা শাহী জামে মসজিদ এখনো নোয়াখালীর ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে আছে। ধর্মীয় আবহ, প্রাচীন স্থাপত্য ও ইতিহাসের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই স্থাপনা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও অতীতের এক মূল্যবান স্মারক হিসেবে টিকে থাকবে।
স্বাধীনবাংলা. নেট
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10