প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১০:০৭ এএম
অনলাইন সংস্করণ
রাজনীতিতে পদ-পদবি অনেকেরই থাকে। তবে রাজনৈতিক সংকট ও প্রতিকূল সময়ে নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে আস্থা অর্জন করতে পারেন খুব কমসংখ্যক নেতা। কালীগঞ্জের বিএনপির রাজনীতিতে খালেকুজ্জামান বাবলু তেমনই একজন পরিচিত মুখ বলে দাবি দলীয় নেতাকর্মীদের। তাদের কাছে তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন, বরং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও ‘বাবলু ভাই’ নামে পরিচিত একজন নির্ভরতার মানুষ।
জাতীয়তাবাদী আদর্শের রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত খালেকুজ্জামান বাবলু বর্তমানে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতা ও চাপের মধ্যেও তিনি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। দলের কঠিন সময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থাকারও চেষ্টা করেছেন তিনি। বিএনপির নেতাকর্মীদের দাবি, বিগত স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামের সময় কালীগঞ্জের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল উত্তপ্ত। সে সময় মামলা, হামলা, গ্রেপ্তার ও হয়রানির কারণে অনেক নেতাকর্মী কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। দলীয় সূত্রের দাবি, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকার কারণে ওই সময়ে খালেকুজ্জামান বাবলুর বিরুদ্ধে ৩৭টি মামলা দায়ের করা হয়। একাধিক মামলার আসামি হওয়া এবং কারাভোগের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়েও তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে পিছিয়ে যাননি বলে দাবি তার দীর্ঘদিনের সহকর্মীদের। তাদের মতে, মামলা ও কারাবরণের চাপের মধ্যেও তিনি সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন।
দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, রাজনৈতিক সংকটের সময় কেউ গ্রেপ্তার হলে তার জামিনের বিষয়ে সহযোগিতা করা, কারাবন্দি নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেওয়া এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার মতো বিষয়গুলোতে বাবলু ভাইকে পাশে পেয়েছেন তারা। অসহায় পরিবারগুলোর প্রতিও তিনি ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন বলে দাবি তাদের। নেতাকর্মীদের ভাষ্য, এসব সহযোগিতার অনেকটাই ছিল প্রচারবিমুখ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা জনসমক্ষে নিজের ভূমিকা তুলে ধরার চেয়ে সরাসরি কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখাকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। আর এ কারণেই তৃণমূল পর্যায়ে তার প্রতি এক ধরনের আস্থা তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন অনুসারীরা।
বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও প্রচারের গুরুত্ব বাড়লেও খালেকুজ্জামান বাবলুর রাজনীতিতে কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ককে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তার অনুসারীদের। তাদের মতে, সংকটের সময়ে নেতাকর্মীদের খোঁজ নেওয়া, পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ ধরে রাখার কারণে তৃণমূলে তার আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে।
‘বাবলু ভাই’—নেতাকর্মীদের মুখে বহুল ব্যবহৃত এই সম্বোধনটিও তাদের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্কের প্রতিফলন বলে মনে করেন সহকর্মীরা। তাদের মতে, এই নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাজনৈতিক দুঃসময়, মামলা-হামলা, কারাবরণ এবং পরস্পরের পাশে থাকার নানা স্মৃতি। দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি, খালেকুজ্জামান বাবলুর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রভাব তার পরিবারকেও নানা সময়ে বহন করতে হয়েছে। তাদের ভাষ্য, তার তিন ভাইয়ের মধ্যেও এমন কেউ নেই, যিনি রাজনৈতিক কারণে কারাবরণের মুখোমুখি হননি।
পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নানা প্রতিকূলতার কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে খালেকুজ্জামান বাবলুর একমাত্র ছেলেও একসময় গুমের শিকার হন। পরে একটি মামলায় তাকে প্রায় দেড় মাস কারাভোগ করতে হয়। এসব ঘটনা পরিবারটির জন্যও কঠিন সময় তৈরি করেছিল বলে জানান তারা। নিজের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা, কারাবরণ এবং পরিবারের সদস্যদের নানা দুর্ভোগ—সব মিলিয়ে কঠিন সময় পার করতে হয়েছে খালেকুজ্জামান বাবলুকে। তবে এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে সরিয়ে নেননি বলে দাবি তার সহকর্মীদের।
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের মতে, খালেকুজ্জামান বাবলুর রাজনৈতিক পথচলায় সংগ্রাম ও প্রতিকূলতার পাশাপাশি তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাদের ভাষ্য, পদ-পদবির বাইরে কর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ও দুঃসময়ে পাশে থাকার মানসিকতাই তাকে তৃণমূলের কাছে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। কালীগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীদের অনেকে মনে করেন, রাজনীতিতে সুসময় যেমন আসে, তেমনি আসে কঠিন সময়ও। তবে সংকটের সময়ে যারা কর্মীদের পাশে থাকেন, তাদের প্রতি তৃণমূলের আস্থা দীর্ঘস্থায়ী হয়। খালেকুজ্জামান বাবলুর ক্ষেত্রেও ‘বাবলু ভাই’ পরিচিতিটি সেই দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পর্ক, আস্থা ও সহযাত্রার প্রতিফলন বলে দাবি তার সহকর্মী ও অনুসারীদের।
স্বাধীনবাংলা.নেট
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10